পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি দ্রুতই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য খুব শিগগিরই নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার সচিবালয়ে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের প্রধান দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মজুরি বোর্ড গঠিত, সিদ্ধান্ত দ্রুত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের বৈঠক দ্রুতই অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে নতুন মজুরি চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান তিন বছর মেয়াদী মজুরি কাঠামোর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নতুন মজুরি নির্ধারিত হবে। ফলে এই বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আন্দোলন করার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অসন্তোষের পেছনে মালিক ও রাজনৈতিক উসকানি
তৈরি পোশাক খাতের সাম্প্রতিক অসন্তোষের পেছনে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ কয়েকজন কারখানা মালিকের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগী ও নিষিদ্ধ কিছু গোষ্ঠী সাধারণ শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা কিংবা শ্রমিক আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সহিংস ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং অডিও-ভিডিওর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগৃহীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও মালিকদের সহযোগিতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। মজুরি পুনর্নির্ধারণে সর্বোচ্চ সহানুভূতি ও সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।”
যেসব মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে কারখানা বন্ধ রেখেছেন এবং যেসকল নামধারী শ্রমিক নেতা উসকানি দিচ্ছেন, তাদের তালিকা প্রদান করতে কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠন কখনো নিজের জীবিকা ও দেশের ক্ষতি করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বিভ্রান্তদের অনতিবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
উক্ত বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।