এইচএসসিতে ইংরেজি ও আইসিটিতে চার লাখ ফেল: ‘পুরো জাতির ব্যর্থতা’ বললেন ঢাবি অধ্যাপক
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও আইসিটিতে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। একে শিক্ষা ব্যবস্থা ও পুরো জাতির ব্যর্থতা হিসেবে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বড় বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। কেবল এই দুটি মৌলিক বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী। এই গণফেলকে কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অক্ষমতা হিসেবে না দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ও জাতির ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক।
সংকট তৈরি হচ্ছে শ্রেণিকক্ষেই
শিক্ষাবিদদের মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি এবং আইসিটি—এই দুই বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ এক দশক ধরে এই বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক দুর্বলতা দেখা গেলেও কার্যকরী কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি।
পরীক্ষায় খারাপ করার পেছনে প্রধান কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
- দক্ষ শিক্ষকের অভাব: বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে।
- ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব: কম্পিউটার ল্যাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে আইসিটি বিষয়টি রূপ নিয়েছে কেবল তত্ত্বনির্ভর মুখস্থবিদ্যায়।
- ভীতি ও ভুল পদ্ধতি: ব্যাকরণকেন্দ্রিক কঠিন পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইংরেজি শেখার প্রতি ভীতি তৈরি হচ্ছে।
জাতীয় ব্যর্থতার দায়ভার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষক মনে করেন, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া কেবল একটি পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোর গলদ চিহ্নিত করে। তিনি জানান, দেশের লক্ষাধিক তরুণ আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের দুটি প্রধান হাতিয়ার—ইংরেজি ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ছে। এর দায়ভার শিক্ষা নীতি নির্ধারক, শিক্ষকসমাজ এবং রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
জরুরি সংস্কারের তাগিদ
বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে এইচএসসি স্তরে ইংরেজি ও আইসিটি পাঠদান পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন। কেবল পাসের হার বাড়ানোর নীতি থেকে সরে এসে প্রতিটি কলেজে মানসম্মত শিক্ষকের পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রতিবছর এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া ও অকৃতকার্যতার মিছিল থামানো সম্ভব হবে না।