জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরায় বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছে। একই সঙ্গে এই জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত আয়রনযুক্ত অনিরাপদ পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘খানি বাংলাদেশ’ ও ‘প্রাণ’ (PRAN) যৌথভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ডিসপ্লেসড, ডিনাইড’ (Displaced, Denied) শীর্ষক গবেষণার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সাতক্ষীরার ৩৫টি অস্থায়ী ও বস্তিসদৃশ বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। গবেষণায় পরিবেশগত কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা বঞ্চনার ভয়াবহ রূপ উন্মোচিত হয়েছে।
খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত ৭৪.৯ শতাংশ পরিবারই তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিস্থিতি এতটাই করুণ যে, ৫২.২ শতাংশ পরিবারকে কোনো না কোনো দিন সম্পূর্ণ অনাহারে কাটাতে হয়েছে। অন্যদিকে, শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে ৯৫.২ শতাংশ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা নিজেদের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
খাদ্য সংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সমস্যাও অত্যন্ত প্রকট। জরিপে দেখা গেছে, ৯৬.৯ শতাংশ পরিবার পানের জন্য এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে লবণাক্ত কিংবা আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
উচ্ছেদ ঝুঁকি ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশই স্থায়ী উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, চরম সংকটে থাকা সত্ত্বেও এই পরিবারগুলোর মাত্র ৭.৫ শতাংশ সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন।
কপ৩১ সম্মেলনের আগে অধিকার নিশ্চিতের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (COP31)-কে সামনে রেখে জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, নিরাপদ পানীয় জল, স্থায়ী বাসস্থান এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মৌলিক অধিকারগুলো অবিলম্বে নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।

