সংস্কারের আশায় মানুষ স্বস্তির দিন গুনছিল। কিন্তু সেই আশাই এখন পরিণত হয়েছে নতুন দুর্ভোগে। একসময় যে সড়কে তিনটি স্থানে খানাখন্দ ছিল, এখন পুরো চার কিলোমিটার পথেই কাদা, গর্ত আর জমে থাকা পানি। বর্ষার বৃষ্টিতে সেই দুর্ভোগ যেন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজার থেকে দোলনবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক এখন স্থানীয়দের জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই কোথায় রাস্তা, আর কোথায় গর্ত বোঝার উপায় থাকে না। মোটরসাইকেলের চাকা হঠাৎ গর্তে দেবে যায়, অটোরিকশা ঝুঁকে পড়ে, পথচারীরা কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুর বাজার সংলগ্ন চাতালের সামনে, বাবুর বাড়ির কাছে এবং জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সাব-অফিসের সামনের অংশে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে চলতি বছরের ৮ মে সড়কের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন।
গাজীপুর জেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ইস্কাটন দিলু রোডের মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশন। প্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৫ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজের চুক্তি সম্পন্ন হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারকাজ শুরুর পর পুরো সড়কের পুরোনো পিচ তুলে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এরপর কাজের গতি অনেকটাই থেমে যায়। কোথাও কিছু ইট ও বালুর স্তূপ দেখা গেলেও অধিকাংশ স্থানে শ্রমিকের উপস্থিতি নেই। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা।
দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে অটোচালক গোল্লারটেক এলাকার ওসমান সরকার ও জামালপুর বাগমারপাড়া এলাকার আক্তার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার। আগে বালা কইরা চলাচল করা গেলেও এহন খুবই অসুবিধা অইতাছে। কারণ আগে পুরা রাস্তার তিন জায়গায় সমস্যা আছিল। আর এহন পুরা রাস্তাই সমস্যা। তবে কন্টেকদার যদি তাড়াতাড়ি রাস্তার কাজ শেষ করে তাইলে মাইনষের দুর্ভোগ কমবো।’
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, ‘সড়কটির উন্নয়নকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন সাহেব ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন।’
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী এমরান হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে যিনি মাঠপর্যায়ে কাজ দেখছেন, তার কাছে আপনার মোবাইল নম্বর দেওয়া হবে এবং তিনিই বিস্তারিত জানাবেন। তবে কে কাজের দায়িত্বে রয়েছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একই কথা বলে ফোন কেটে দেন।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক বলেন, ‘প্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পরপর দুইবার লিখিত চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করে সড়কের কাজ পরিচালনা করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তাই সংশ্লিষ্ট সড়কের কাজের অগ্রগতি ও বাস্তব পরিস্থিতি খোঁজ নিয়ে দেখব। ঠিকাদারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। এ ধরনের ঝুলে থাকা উন্নয়নকাজ নিয়ে সংসদ সদস্যে সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী না হয়।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ হবে। কারণ দৈনন্দিন জীবনের প্রধান ভরসা এ সড়ক।
আব্দুর রহমান আরমান/কেজে/এএসএম