প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে। অনেকের জন্যই এটি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রথম ধাপ। কিন্তু সেই পথ এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এক প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শুধু নতুন ভিসা নয়, বিদ্যমান এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়াতেও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে নিয়োগদাতাদের। ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি পেশাজীবীদের চাকরি নবায়ন ও নিয়োগের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কী পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে

বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন বা নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের সময় অতিরিক্ত চার হাজার ডলার ফি দিতে হয়। এল-১ ভিসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু নতুন আবেদন নয়, বিদ্যমান কর্মীদের ভিসার নিয়মিত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও একই অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।

অর্থাৎ প্রতিবার ভিসা নবায়নের সময় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে।

কোন ফি বাড়ানো হচ্ছে

এই অতিরিক্ত অর্থের নাম ‘৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি’। এটি সাধারণ ইউএসসিআইএস ফাইলিং ফি থেকে আলাদা।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক ল– ১১৪-১১৩-এর আওতায় এই ফি চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা ও বায়োমেট্রিক প্রবেশ-প্রস্থান কর্মসূচির অর্থায়ন।

এখন পর্যন্ত এটি নির্দিষ্ট ধরনের নতুন আবেদন ও নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে নিয়মিত ভিসা নবায়নকেও এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

কবে কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম?

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিয়ন্ত্রক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, এ–সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিধিমালা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ হতে পারে।

তবে এখনো এটি কার্যকর হয়নি। বর্তমান এইচ-১বি ও এল-১ ভিসাধারীদের অনুমোদিত ভিসার ওপরও এর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।

তাছাড়া অতিরিক্ত ফি কর্মীদের নয়, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকেই পরিশোধ করতে হবে।

আগের প্রস্তাব আদালতে ধাক্কা খেয়েছিল

সম্প্রতি নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য এক লাখ ডলার ফি আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি প্রস্তাব আদালতে টেকেনি। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত সেই প্রস্তাব বাতিল করে দেওয়া নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানান।

মার্কিন নাগরিকদের বদলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতেই সেই প্রস্তাব আনা হয়েছিল। এর পরপরই এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ নবায়নে অতিরিক্ত ফি আরোপের নতুন উদ্যোগ সামনে এলো।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল bdinf লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *