ফুভামুল্লাহর সমুদ্রে ডুবুরিদের ক্যামেরায় ধরা পড়া বিরল আচরণ আন্তর্জাতিক গবেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে; কেন এমন লাফ দেয় এই হাঙর, তার উত্তর এখনো খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

মালদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের ফুভামুল্লাহ দ্বীপের উপকূলীয় সমুদ্রে ধারণ করা একটি বিরল ঘটনার স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক অঙ্গনে। স্থানীয়ভাবে ‘ফিবো মিয়ারু’ নামে পরিচিত একটি ওশেনিক হোয়াইটটিপ হাঙর পানির ওপর লাফ দেওয়ার যে দৃশ্য ডুবুরিদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল, সেটি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে নথিভুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ফুভামুল্লাহ ও হুভাধু অ্যাটলের মধ্যবর্তী সমুদ্র এলাকায়। ফুভামুল্লাহর ডাইভিং সেন্টার পেলাজিক ডাইভার্সের ডুবুরিরা পানির নিচে ডাইভিং করার সময় হঠাৎ দেখতে পান, একটি ওশেনিক হোয়াইটটিপ হাঙর মুখে একটি ছোট মাছ নিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচুতে লাফিয়ে উঠছে। পরে পানিতে ফিরে আসার সময় মাছটি আর তার মুখে ছিল না। একই সময়ে আশপাশে আরও দুটি হাঙরকে বিচরণ করতে দেখা যায়।

ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা ডুবুরি আহমাদ ইনাহু জানান, তার দীর্ঘ ডাইভিং জীবনে এমন দৃশ্য তিনি আগে কখনও দেখেননি। তিনি বলেন, উপস্থিত সবাই বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর একই হাঙরকে দ্বিতীয়বারও লাফ দিতে দেখা যায়। আরেক ডুবুরি আনসার আহমাদ বলেন, নিজের চোখে না দেখলে এমন আচরণ বিশ্বাস করা কঠিন।

পরে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়সহ আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকভাবে নথিভুক্ত করেন। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা হাঙরটি একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী ওশেনিক হোয়াইটটিপ, যা পানির ওপর প্রায় দুই মিটার উচ্চতায় উঠে এসেছিল। গবেষকদের মতে, এ ধরনের আচরণের এটি বিশ্বের হাতেগোনা নথিভুক্ত ঘটনার একটি।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ওশেনিক হোয়াইটটিপ হাঙর সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে এবং এভাবে পানির ওপর লাফ দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মুখে থাকা মাছটি ছেড়ে দেওয়া, শিকার ধরার কৌশল বা অন্য কোনো স্বাভাবিক আচরণের অংশ হিসেবে এটি ঘটতে পারে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের বিরল পর্যবেক্ষণ হাঙরের আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মালদ্বীপের সমুদ্র যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাঙরের আবাসস্থল, এই ঘটনাটি তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি,
স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা
পাঠানোর ঠিকানা –
[email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *