নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে সুমন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার রাতে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন মিয়া বাখননগর গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে। সে আলোকবালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ুম মিয়ার ভাতিজা।

নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সুমন মিয়া ও তার বোন সোনিয়া বাড়ির অদূরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময় ১০ থেকে ১৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সুমনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায়। পরে বাখননগর বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করে ফেলে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভাইয়ের মৃত্যুতে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বোন সোনিয়া। তিনি বলেন, আমার ভাই কয়েকদিন পর বিদেশে চলে যাবে। তার স্ত্রী গর্ভবতী, সে কোনো দল করে না। তার কোনো শত্রু নেই। কিন্তু হাবি, মিটুল, মাইনুদ্দিন, কালা আমার ভাইকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার ভাইয়ের সন্তানদের কি হবে? ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই।

আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন সরকার বলেন, মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিছু বিএনপি নেতাদের ইন্ধনে আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের বাখননগরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এর আগেও বিএনপির তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। তারা পার্শ্ববর্তী চরাঞ্চল থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে এসব অপকর্ম চালায়।

তিনি বলেন, বাখননগর থেকে লোকজন বিএনপির সব সভায় যায়। এই অপরাধে তারা আজকে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সঞ্জিত সাহা/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল bdinf লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *