গাড়িতে ফোন চার্জ দেন? বড় ক্ষতি এড়াতে যেসব ভুল করবেন না

0
গাড়িতে ফোন চার্জ দেন? বড় ক্ষতি এড়াতে যেসব ভুল করবেন না

দীর্ঘ পথে গাড়ি নিয়ে বের হলে স্মার্টফোনের চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার চিন্তা অনেকটাই কমে যায়। কারণ গাড়ির ইউএসবি পোর্ট কিংবা ১২ ভোল্ট পাওয়ার সকেট ব্যবহার করে সহজেই ফোন চার্জ দেওয়া যায়। নেভিগেশনের জন্য গুগল ম্যাপস চালানো, গান শোনা কিংবা জরুরি ফোন করার সময় এই সুবিধা বেশ কাজে আসে।
তবে গাড়িতে ফোন চার্জ দেওয়া যতটা সহজ, অসচেতনভাবে করলে ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিম্নমানের চার্জার, ইঞ্জিন চালুর সময় ফোন সংযুক্ত রাখা কিংবা প্রচণ্ড গরম জায়গায় ফোন রেখে চার্জ দেওয়ার মতো কিছু ভুলে ফোনের ব্যাটারি থেকে শুরু করে গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই গাড়িতে মোবাইল চার্জ করার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি।
সস্তা বা নিম্নমানের কার চার্জার ব্যবহার করবেন না
গাড়িতে ফোন চার্জ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ভালো মানের অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা। বাজারে কম দামে পাওয়া অনেক আনব্র্যান্ডেড চার্জারে প্রয়োজনীয় পাওয়ার রেগুলেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

স্মার্টফোন আসার আগে যে ৫ ফোনে মজেছিল দুনিয়া

এ ধরনের অ্যাডাপ্টার থেকে ফোনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম বিদ্যুৎ যেতে পারে। এতে চার্জিং ধীর হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চার্জার বা কেবল অস্বাভাবিক গরম হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাড়ির ফিউজেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সম্ভব হলে গাড়ি নির্মাতার অনুমোদিত অথবা নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের সার্টিফায়েড কার চার্জার ব্যবহার করা ভালো।
ইঞ্জিন চালুর সময় ফোন চার্জে রাখবেন না
অনেকেই গাড়িতে ওঠার পর প্রথমেই ফোন চার্জারে লাগিয়ে দেন এবং এরপর ইঞ্জিন চালু করেন। এই অভ্যাসটি এড়ানো ভালো। ইঞ্জিন স্টার্টের মুহূর্তে গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সাময়িক ভোল্টেজ ওঠানামা হতে পারে। মানসম্মত চার্জার সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তৈরি হলেও নিম্নমানের অ্যাডাপ্টারে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নাও থাকতে পারে। ফলে ফোনের চার্জিং সার্কিট বা অন্যান্য সংবেদনশীল উপাদানে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিরাপদ পদ্ধতি হলো প্রথমে ইঞ্জিন চালু করা এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর ফোন চার্জে দেওয়া।
রোদের মধ্যে ফোন রেখে চার্জ দেবেন না
গরমের দিনে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরে থাকা তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে ফোন চার্জ করার সময় তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপ যুক্ত হলে ব্যাটারির ওপর চাপ আরও বাড়ে। বিশেষ করে ড্যাশবোর্ডের মতো জায়গায় ফোন রেখে চার্জ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সরাসরি সূর্যের আলো ফোনের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত গরম হলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে, আয়ু কমতে পারে এবং ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে সরাসরি রোদ থেকে দূরে এবং তুলনামূলক ঠান্ডা জায়গায় রাখা উচিত।
গাড়ি বন্ধ করার পরও ফোন চার্জে রেখে যাবেন না
গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করলেই সবসময় তার পাওয়ার সকেট বা ইউএসবি পোর্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় না। অনেক গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ থাকার পরও কিছু সময় বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ১২ ভোল্ট সকেট চালু থাকতে পারে। এ অবস্থায় ফোন দীর্ঘ সময় চার্জে লাগানো থাকলে গাড়ির মূল ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ খরচ হতে থাকবে। ফলে গাড়ির ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

চালকবিহীন গাড়ির জন্য নিজস্ব চিপ তৈরি করল ওয়েমো

এর সবচেয়ে বড় সমস্যা বোঝা যায় পরে। দীর্ঘ সময় গাড়ি বন্ধ থাকার পর ইঞ্জিন চালু করতে গেলে ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত চার্জ না থাকায় গাড়ি স্টার্ট নাও নিতে পারে। তাই যাত্রা শেষ করার পর ফোনের চার্জারটি সকেট বা ইউএসবি পোর্ট থেকে খুলে নেওয়াই নিরাপদ।
ফোনের পাশাপাশি গাড়িরও ক্ষতি হতে পারে
গাড়িতে ফোন চার্জ করার সময় ঝুঁকির বিষয়টি শুধু স্মার্টফোনের ব্যাটারিতে সীমাবদ্ধ নয়। নিম্নমানের অ্যাডাপ্টার বা ত্রুটিপূর্ণ কেবল ব্যবহার করলে গাড়ির ফিউজ কিংবা পাওয়ার সার্কিটেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত তাপ ফোনের ব্যাটারির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গাড়িতে চার্জ দেওয়ার সুবিধা ব্যবহার করার সময় কয়েকটি সাধারণ সতর্কতা মেনে চললেই বড় ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
সঠিক মানের চার্জার ব্যবহার, ইঞ্জিন চালুর পর ফোন সংযুক্ত করা, রোদ থেকে ফোন দূরে রাখা এবং গাড়ি বন্ধ করার পর চার্জার খুলে নেওয়া এই চারটি অভ্যাসই গাড়িতে নিরাপদে ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কেএসকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *