গোসল ফরজ অবস্থায় সালামের জবাব দেওয়া কি জায়েজ?
প্রশ্ন: গোসল ফরজ অবস্থায় কেউ যদি সালাম দেয়, তাহলে সালামের উত্তর দেওয়া কি জায়েজ?
উত্তর: গোসল ফরজ অবস্থায় সালাম দেওয়া জায়েজ, কেউ সালাম দিলে সালামের জবাব দেওয়া অন্যান্য সময়ের মতোই ওয়াজিব। গোসল ফরজ অবস্থায় নামাজ পড়া, মসজিদে প্রবেশ করা বা অবস্থান করা এবং কোরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ হলেও দোয়া, দরুদ, জিকির, তাসবিহ পড়া জায়েজ।
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার আমার সঙ্গে রাসুলুল্লাহর (সা.) দেখা হলো। তখন আমি অপবিত্র ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়েই চলতে লাগলেন। তিনি যখন বসে পড়লেন তখন আমি সঙ্কুচিতভাবে সরে পড়লাম এবং যথাস্থানে গিয়ে গোসল করলাম। তারপর আবার আমি তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি তখনও সেখানে বসে ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, হে আবু হোরায়রা! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? তখন আমি তাকে আমার ব্যাপারটি বললাম। তা শুনে তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! মুমিন ব্যক্তি কখনও অপবিত্র হয় না। (সহিহ বুখারি)
মা’মার (রহ.) বলেন, আমি ইমাম জুহরিকে (রহ.) জিজ্ঞাসা করলাম, যার ওপর গোসল ফরজ সে কি আল্লাহর জিকির করতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, পারবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারবে? তিনি বললেন, না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)
ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেন, গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তিরা আল্লাহর জিকির করতে পারবে এবং বিসমিল্লাহও পড়তে পারবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)
গোসল ফরজ হলে দ্রুত গোসল করে নেওয়া উত্তম। অযথা বিলম্ব করা উচিত নয়। ফরজ গোসল করতে দেরি করার কারণে নামাজের জামাত বা নামাজ ছুটে গেলে গুনাহ হবে। তবে কোনো ফরজ-ওয়াজিব না ছুটলে শুধু ফরজ গোসল করতে বিলম্ব করার কারণে গুনাহ হবে না। কোনো অসুবিধার কারণে ফরজ গোসল করতে দেরি হলে অজু করে নেওয়া উত্তম।
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়
১. পুরুষ অথবা নারী ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় যে কোনো কারণে উত্তেজনার সাথে বীর্যপাত হলে গোসল ফরজ হয়ে যায়।
২. স্বপ্নদোষ হলে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি কাপড়ে বীর্যের চিহ্ন দেখা যায় তাহলে গোসল করতে হবে।
৩. স্বামী স্ত্রী শারীরিকভাবে মিলিত হলে গোসল ফরজ হয়ে যায়। মিলন প্রাথমিক অবস্থায় থাকলেও বা বির্যপাত না হলেও গোসল ফরজ হয়ে যায়।
৪. নারীদের মাসিক বা হায়েজ শেষ হলে গোসল করে পবিত্র হতে হয়।
৫. নারীদের নেফাস বা সন্তান জন্মদান পরবর্তী রক্তপাত বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে পবিত্র হতে হয়।
ওএফএফ