পল্টন থানার হত্যা মামলায় জালাল-সোলায়মান গ্রেফতার

0
পল্টন থানার হত্যা মামলায় জালাল-সোলায়মান গ্রেফতার

 
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টনে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিমকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
রাজনৈতিক অবস্থান ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষকে দমন এবং ওই ঘটনায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও সোলায়মান সেলিম নিজ নিজ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে দমন এবং মামলার ঘটনা-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বর্তমানে অন্য মামলায় কারাগারে থাকা এই দুই আসামিকে পল্টন থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

এক মামলায় কয়বার রিমান্ডে নেবে, সোলায়মান সেলিমের প্রশ্ন

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগ তদন্ত করছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নির্ধারণের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও সোলায়মান সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।
যে ঘটনায় মামলা
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ পণ্ড করার উদ্দেশে পল্টন ও আশপাশের এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতা চালানো হয়। ওইদিন দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট এবং নগদ টাকা, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। এতে প্রায় ৮৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সময়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে মকবুল নামে এক বিএনপি কর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
আদালতে দেওয়া শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদনপত্রে মামলার বাদীর নাম কিংবা ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখের পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এটি পল্টন মডেল থানার মামলা নম্বর-৪৮, যা ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ দায়ের করা হয়। সংযুক্ত নথিপত্র ও প্রাপ্ত তথ্যে মামলার সরাসরি বাদীর সুনির্দিষ্ট নাম পাওয়া যায়নি।
এমডিএএ/এমকেআর

Summarize this article with:
ChatGPT
ChatGPT
Perplexity
Perplexity
Mistral
Mistral
HuggingChat
HuggingChat
You.com
You.com
Grok
Grok

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *