পোশাক কারখানায় ভাঙচুর শ্রমিকদের চাকরি ঝুঁকিতে ফেলবে: নাজমা আক্তার
পোশাক আন্দোলনের নামে কারখানায় ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিজেদের চাকরিকেই ঝুঁকিতে ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন শ্রম নেতা নাজমা আক্তার।
শ্রমিক আন্দোলনের নামে পোশাক কারখানায় ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে তা শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিজেদের কর্মসংস্থানকেই ঝুঁকিতে ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার। তিনি জানান, এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের ভারতসহ অন্যান্য বিকল্প দেশে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরে উৎসাহিত করছে।
সোমবার সকালে শ্রম ভবনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধিদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রখ্যাত এই শ্রম নেতা এসব কথা বলেন।
বিদেশি ক্রেতা হারানোর শঙ্কা
সংবাদ সম্মেলনে নাজমা আক্তার উল্লেখ করেন, “বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশের দিকে ঝুঁকছেন। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে শ্রমিকরা নিজেরাই কাজ হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়বেন।”
তিনি আরও বলেন, কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে ও ভাঙচুর চললে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিলে দেশে এক বড় ধরনের বেকারত্ব বা কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হতে পারে।
বহিরাগতদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ
পোশাক খাতের চলমান অসন্তোষের পেছনে বহিরাগতদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু বহিরাগত এবং অসন্তুষ্ট ব্যক্তি সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “কারখানা বন্ধ বা বকেয়া মজুরি না দেওয়ার মতো অজুহাত তৈরি করে একদল লোক কারখানায় প্রবেশ করে ধ্বংসাত্মক কাজ চালাচ্ছে। এ ধরনের উসকানিমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি জানানোর আহ্বান
যেকোনো অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে শ্রমিকদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এই শ্রম নেতা। তিনি পরামর্শ দেন, শ্রমিকদের কোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তা হট্টগোল না করে লিখিতভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা উচিত।
শিল্প মালিকদের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন কারখানার মালিকরা ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত। এ কারণে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অন্য খাতে মোড় দেওয়ার অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সদস্য আনোয়ার হোসেন। এছাড়া অন্যান্য শ্রমিক প্রতিনিধি ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- বাবুল আকতার
- সুলতানা বেগম
- লাভলী ইয়াসমিন
- খালিকুজ্জামান লিপু
- সোহেল রানা