পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি দ্রুতই নির্ধারণের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি দ্রুতই নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অসন্তোষ তৈরিতে যুক্ত উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রয়োজনীয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি জানান, মালিক ও শ্রমিক উভয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে ইতোমধ্যে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের ভেতরে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।

মালিকপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

সচিবালয়ে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পোশাক খাতের বর্তমান তিন বছরের মজুরি চক্রের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতার আলোকেই বোর্ড নতুন মজুরি ঠিক করবে, তাই রাস্তায় নেমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো কারণ নেই।

উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি কিছু কারখানার মালিকের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনেরও এতে যোগসাজশ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্ক করা হয়। মন্ত্রী বলেন, পতিত স্বৈরাচারী শাসনের অনুসারী কিছু গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

ইতোমধ্যেই সহিংস ঘটনায় জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নৈরাজ্য ও ভাঙচুরের পর্যাপ্ত অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে।

মালিক ও সংগঠনগুলোর কাছে তালিকা তলব

যেসব মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে কারখানা বন্ধ রেখেছেন এবং যেসব উসকানিদাতা সংগঠন বা ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের তালিকা দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠন নিজেদের জীবিকার ক্ষতি হতে পারে এমন কাজ করতে পারে না। অসন্তোষে জড়িতরা মূলত চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী, তারা শ্রমিক নয়।” যারা ভুলবশত বা না বুঝে এসব তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন, তাদের অনতিবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন:

  • আরিফুল হক চৌধুরী: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী।
  • মাহদী আমিন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
  • অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস: পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক।
Views: 0