বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও চামড়া শিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রযুক্তি নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

নগর ও শিল্পবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং চামড়া খাতের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সহায়তা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প সুবিধা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের এই সফর সম্পর্কে শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরিদর্শনের সময় প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি

সফরের প্রথম দিন বুধবারে মন্ত্রী ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন পৌরসভার বর্জ্য পোড়ানো ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট ঘুরে দেখেন। ‘ইসতাচ’ (İSTAÇ) পরিচালিত এই কেন্দ্রটির দৈনিক ৩,০০০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা রয়েছে এবং এখান থেকে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা শোধন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সার্বিক প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। স্থানীয় পরিবেশ ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের প্রযুক্তি গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং ল্যান্ডফিলের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চামড়া খাতের আধুনিকায়ন ও কেন্দ্রীয় শোধনাগার

একই দিনে মন্ত্রী ইস্তাম্বুলের তুজলায় অবস্থিত ‘ইস্তাম্বুল লেদার অর্গানাইজড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (İDOSB) পরিদর্শন করেন। সেখানে জোনের চেয়ারম্যান চেলাল কোপুজ, তুর্কি শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং খাতের প্রতিনিধিরা তাকে অর্থনৈতিক অবদান ও সামগ্রিক কার্যক্রমের তথ্য দেন।

তারা জানান, কিভাবে সুপরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল ও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) সাহায্যে পরিবেশ রক্ষা করে চামড়া উৎপাদন বাড়ানো যায়। এই মডেল বাংলাদেশের চামড়া শিল্পনগরীগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং পরিবেশগত মান নিশ্চিতে সহায়তা করবে। পরে মন্ত্রী ‘জেভাহির লেদার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড কোম্পানি লিমিটেড’-এর কারখানা পরিদর্শন করে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি প্রত্যক্ষ করেন।

বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী শিলে (Şile) এলাকার এনারগ্রাম থার্মাল ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন। এটি বিল্ড-অপারেট-ট্রান্সফার (বিওটি) পদ্ধতিতে পরিচালিত একটি বিশেষ প্ল্যান্ট, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পবর্জ্য তাপীয় প্রক্রিয়ায় শোধন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।

  • বার্ষিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা: ৩৩,০০০ টন
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা: ৫.৬ মেগাওয়াট

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্ভাবনা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্কের সঙ্গে এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতা শুরু হলে বাংলাদেশের শহরগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেমন সহজ হবে, তেমনি উৎপাদিত বিদ্যুৎ মূল গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া চামড়া শিল্পের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Views: 0