সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টটি সমতায় ফিরেছে। তরুণ ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদের চমৎকার বোলিং নৈপুণ্যে প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের ৩৫৬ রানে গুটিয়ে দেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও টপ অর্ডার ধসের মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে।
হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিং ও হ্যাটট্রিকের সুযোগ
দ্বিতীয় দিন ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একসময় বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ১৩৩ রানে ব্যাটিং করতে থাকা আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে তার ১০৬ রানের জুটি ভাঙেন হাসান। ঠিক পরের বলেই সফরকারী অধিনায়ক রস্টন চেজকে শূন্য রানে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান এই স্পিডস্টার।
পরের বলে জশুয়া বিশপকে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিলে হ্যাটট্রিকের আনন্দে মাতেন হাসান, কিন্তু বিশপ সফলভাবে রিভিউ নিলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশপকে (২৩) ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের পঞ্চম ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন হাসান। এর মাধ্যমে হাসান মাহমুদের টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ৬ উইকেট শিকার সম্পন্ন হয়, তিনি শেষ পর্যন্ত ৯০ রানে ৬ উইকেট নেন।
গ্রিভসের ফিফটি ও উইন্ডিজের ৩৫৬ রান
অন্য প্রান্তে ধৈর্যশীল ব্যাটিং চালিয়ে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন উইন্ডিজ ব্যাটার জাস্টিন গ্রিভস (৫১)। বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ গ্রিভসকে আউট করে দলে প্রথম স্পিন সাফল্য এনে দেন। পরে জয়ডেন সিলসকে আউট করে উইন্ডিজ ইনিংসের পতন ঘটান মিরাজ। সফরকারীদের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৫৬ রানে।
টপ অর্ডারের ধস ও মুশফিক-হৃদয়ের প্রতিরোধ
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই ওপেনিং জটিলতায় পড়ে। গোড়ালি আঘাত পাওয়ার কারণে নিয়মিত ওপেনার সাদমান ইসলাম না নামায় মেকশিফ্ট ওপেনার হিসেবে ব্যাটিংয়ে আসেন নাঈম হাসান। তবে জয়ডেন সিলসের বলে স্লিপে ব্র্যান্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৫ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর কেভিন উইকহামের দুর্দান্ত ক্যাচে জাস্টিন গ্রিভসের শিকার হন তানজিদ হাসান তামিম (১৬)। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইনসুইঙ্গারে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন ১৮ রান করে। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন বিপদে, তখন দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়।
দুই ব্যাটার শক্ত হাতে উইন্ডিজ পেসারদের তোপ সামাল দেন। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ৮৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ২৯ রানে এবং মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

