শাহজালাল বিমানবন্দরে ই-গেট: কেবল যন্ত্রপাতি কেনাই আধুনিকায়ন নয়, চাই পূর্ণ কার্যকারিতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী কাউন্টারে ই-ইমিগ্রেশন গেট (ই-গেট) চালু করার সিদ্ধান্তটি বিমানবন্দরের সেবা আধুনিক ও ডিজিটাল করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। দেশে ফেরা নাগরিকরা ২০ সেকেন্ডের কম সময়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারছেন—এটি নিঃসন্দেহে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত একটি সুবিধা। তবে আগমনী অংশে স্বয়ংক্রিয় সেবা চালু হলেও বহির্গমন অংশের ই-গেটগুলো পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকা আমাদের সরকারি খাতের একটি পুরোনো সমস্যার কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ইকোসিস্টেম, সফটওয়্যার সমন্বয় ও পরিচালনা সক্ষমতা তৈরি না করেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রাখার এই মানসিকতা অত্যন্ত হতাশাজনক।

অবকাঠামো ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বৈষম্য

মূল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্থবির থাকলে ডিজিটাল সেবার কোনো বাস্তব সুফল পাওয়া যায় না। এটিকে জনসাধারণের অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। যখন আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো মূল প্রশাসনিক জটিলতা বা ইমিগ্রেশনের দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে ব্যর্থ হয়, তখন তা কার্যকর অগ্রগতির বদলে কেবল বাহ্যিক প্রদর্শনীতেই পরিণত হয়।

প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থার সংকট

জাতীয় প্রশাসনিক খাতের অন্যান্য সমস্যার মতোই এই বিশৃঙ্খলার পেছনে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা এবং খণ্ডবিখণ্ড পরিকল্পনা। প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইন্টারঅপারেবিলিটি এবং কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করে কোটি কোটি টাকার প্রযুক্তি কেনাকাটা করার এই ধারা আমাদের সরকারি প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

আমাদের জাতীয় বিমানবন্দর ব্যবহারকারী সাধারণ যাত্রীদের একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সম্মানজনক সেবা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পগুলো কেন তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না, সে বিষয়ে আর কোনো প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক অজুহাত কাম্য নয়।

কার্যকর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা

কেবল ধুলোবালি জমা আধুনিক সরঞ্জাম বসিয়ে রেখে কোনো দেশের উন্নয়ন বা আধুনিকায়ন পরিমাপ করা যায় না। একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর পরিচালনা করতে হলে সরকারকে অবশ্যই শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। হাতেকলমে ইমিগ্রেশন পরিচালনার বাড়তি চাপ ও সমন্বয়হীনতা দূর করে একটি সম্পূর্ণ কার্যকর ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের মূল দাবি।

Views: 0