কলিজার টুকরাকে একবারও কোলে নেওয়া হলো না, রাশিয়ায় চিরঘুমে আলাল

0
কলিজার টুকরাকে একবারও কোলে নেওয়া হলো না, রাশিয়ায় চিরঘুমে আলাল

সন্তান জন্মের খবর পেয়েছিলেন হাজার হাজার মাইল দূরের রাশিয়া থেকে। স্বপ্ন ছিল কাজ শেষে দেশে ফিরবেন। আদরের সন্তানকে প্রথমবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরবেন। শুনবেন প্রিয় সন্তানের মুখে বাবা ডাক। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভয়াবহ বিস্ফোরণে রাশিয়াতেই চিরঘুমে শায়িত হলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের আলাল হোসেন।
গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন আলাল হোসেন। চারদিন পর ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কফিনবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো আলালকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা।
নিহত আলাল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের খেড়ু মন্ডলের ছেলে। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে বছরখানেক আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই দেশে ফেরার কথা ছিল তার।
নিহত আলালের বাবা খেড়ু মন্ডল জানান, পরিবারের জন্য ভালো কিছু করার আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল আলালের। কিন্তু একটি বিস্ফোরণ তাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।
এদিকে ছেলের কফিন দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আলালের মা ফাতিমা খাতুন। সন্তান হারানোর শোকে কথা বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। বুক চাপড়ে কান্না করছেন আর বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই থামছে না আহাজারি।
আলালের শাশুড়ি সুফিয়া খাতুন জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আলালের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান। দূর প্রবাসে থেকেই সন্তানের জন্মের খবর পান তিনি। তখন থেকেই ছেলেকে একবার কোলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন আলাল। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই দেশে ফিরে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন—এমন স্বপ্নই দেখতেন তিনি।
প্রতিবেশী আরাফাত হোসেন বলেন, ‌‘পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন আলাল। পরিবারকে ভালো রাখার সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। সবমিলিয়ে আলালের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।’
আসিফ ইকবাল/এসআর/জেআইএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *