১৩ সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন শুরু
ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশা সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনতে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশা আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে এসব যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে পর্যায়ক্রমে চালকদের লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
আইনি কাঠামো ও ঘোষণা
রবিবার সচিবালয়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নতুন নীতিমালা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৬ সালে সংসদে পাস হওয়া ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’-এর ১২০ ধারায় সংশোধনী এনে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে চূড়ান্ত নীতিমালা গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ায় নিবন্ধনে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
নিবন্ধন ফি ও নিয়মাবলী
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী যানবাহনভেদে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে:
- ২ যাত্রীভিত্তিক ই-রিকশা: প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা সাপেক্ষে প্রতি বছর নবায়ন ফি ৪,০০০ টাকা।
- ৪ যাত্রীভিত্তিক ই-রিকশা: নিবন্ধন ফি ১০,০০০ টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫০০ টাকা।
- কিউআর কোড ফিটনেস সনদ: সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন থেকে কিউআর কোডযুক্ত সনদ নিতে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা দিতে হবে।
একটি ই-রিকশা রাস্তায় সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচলের অনুমতি পাবে।
উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও বুয়েটের নকশা
ই-রিকশার নির্মাণ তদারকি এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দিতে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, নতুন রিকশা বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। বর্তমানে চালু থাকা যানবাহনগুলোকেও সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে বুয়েটের নকশায় রূপান্তর করতে হবে। এছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা বা গলিয়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকার জন্য ৮টি জোন
রাজধানী ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য ৮টি পৃথক জোন গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে ৪টি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের রিকশার রঙ আলাদা হবে, যাতে এক জোনের যানবাহন অন্য জোনে না যেতে পারে। ট্রাফিক যানজট বিবেচনায় নিয়ে কোন জোনে কতটি রিকশা চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
চালক ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নির্দেশনা
নিবন্ধন ছাড়া রিকশা চালানো, নির্দিষ্ট গতির চেয়ে দ্রুত চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল পরিবহন, নিষিদ্ধ স্থানে যাতায়াত কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনই হুট করে রিকশা বন্ধের পরিকল্পনা সরকারের নেই। নিয়মিত রিকশা চলাচল অব্যাহত থাকবে এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন দিয়ে অবৈধ যানবাহন তুলে নেওয়া হবে। পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভাড়া ও চার্জিং স্টেশন
অনুমোদিত স্থানে সোলার বিদ্যুৎচালিত চার্জিং স্টেশন পরিচালনাকারীদের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ অপচয় বা অবৈধ সংযোগ বন্ধে ম্যাজিস্ট্রেটরা পর্যবেক্ষণ করবেন। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলে মালিক, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া নির্দিষ্ট করা হবে।