জনগণ আর আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেবে না: সালাহউদ্দিন আহমেদ

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে কঠোর বক্তব্য

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক ধর্মীয় সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশে আওয়ামী লীগকে আর কখনো রাজনীতি করার অনুমতি দেবে না জনগণ। দলটিকে নিপীড়নকারী, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যাকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত দিনে যারা মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে এবং রক্ত ঝরিয়েছে, রাজনীতিতে তাদের ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া গোষ্ঠীটি এত মানুষের প্রাণহানি ও নির্যাতনের পরও কোনো প্রকার অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। জনগণের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে এ ধরনের শক্তির বিরুদ্ধে পুরো দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ।

গার্মেন্টস খাতের বিশৃঙ্খলা ও আন্দোলনের বিষয়ে আহ্বান

তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার পেছনে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির উসকানি রয়েছে বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিভিন্ন আন্দোলনের নামে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের প্রতি তিনি গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা না-ও করতে পারেন, কিন্তু দেশের মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন।”

১৬-১৭ বছরের নির্যাতন ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান

একটি নিরঙ্কুশ ও ইসলামবিরোধী শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর লেগেছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ প্রক্রিয়ায় অসংখ্য আলেম-ওলামা ও ছাত্র-জনতা জীবন উৎসর্গ করেছেন।

বক্তব্যে তিনি জাতিসংঘ ও অন্যান্য হিসাবের ভিত্তিতে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন:

  • জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান: জাতিসংঘের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন।
  • গুম ও নির্যাতন: বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩,০০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তিনি নিজে এই গুমের ভুক্তভোগী ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, মহান আল্লাহর কৃপা ও জনগণের দোয়ায় তিনি বেঁচে আছেন।
  • হয়রানি ও মামলা: এই সময়ে অন্তত ৭,০০০ মানুষকে হত্যা বা বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হয়েছে।

ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি সেই সব রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করেন, যারা নির্বাচনের সময় ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করলেও নির্বাচনী সনদে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায় না।

নিজের দলের নীতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজনকারী দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী ভাবধারায় আমরা আস্থা রাখি।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা দেশে কোনো বিভাজন চান না, বরং সব নাগরিকের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় পরিচয় ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান।

Views: 0