সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর পর গ্রেফতার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক-লোকেশন, লগিং হিস্ট্রি ও চ্যাট হিস্ট্রির তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বেশকিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মেসেঞ্জারে কথা বলতেন মোজাফফর।
এছাড়াও কিছু গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন মোজাফফর। সেসব জানতে মেটার কাছে ই-মেইলে তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোজাফফরের মুছে ফেলা ফেসবুক কথোপকথন উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রেও মেটার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
১৯৮১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোজাফফরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ১৬ জুলাই গ্রেফতারের পর তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর ২৩ জুলাই অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাকে দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি তদন্ত সংস্থা। এছাড়াও মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসুদ ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তৎকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী যে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন সেই একই মামলায় মোজাফফরকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর দাবি করেন, মোজাফফর হোসেন গত ১৬ বছর ধরে মাসুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাকরে আসছিলেন।
পলাতক থাকা অবস্থায় তিনি বারবার প্রতিবেশী দেশে যাতায়াত করেন এবং মাসুদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এফএইচ/এমআইএইচএস

Leave a Reply