গতকালের চেয়ে আজ ভালো থাকার চেষ্টা করুন, জীবন বদলে যাবে
[ad_1]
এমকে হক, জার্মানি
‘ভাই, যদি আবার জীবনটা শুরু করার সুযোগ পেতেন, তাহলে কি আবারও জার্মানিতেই আসবেন?’—কয়েকদিন আগে এমন একটি প্রশ্ন পেয়েছিলাম। হুট করে উত্তর দেওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ, কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা, হারানো আর পাওয়ার হিসাবটা শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে শেষ করা যায় না।
প্রবাস মানেই এক অদৃশ্য ত্যাগ। পরিবারের সঙ্গে কাটানো বিকেল, বন্ধুদের আড্ডা, ঈদের সকাল, কিংবা বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে গল্প করার মতো মুহূর্তগুলোর কোনো বিকল্প হয় না। ভিডিও কলে মুখ দেখা গেলেও মানুষকে জড়িয়ে ধরা যায় না, আর এই দূরত্বের কষ্টটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
তবে এই কঠিন বাস্তবতা আমাকে এমন কিছু শিখিয়েছে, যা হয়তো অন্যভাবে শেখা সম্ভব ছিল না। জার্মানি আমাকে নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে শিখিয়েছে। আগে ছোট সমস্যায় মন ভেঙে গেলেও এখন বুঝি-মাথা ঠান্ডা রাখলে প্রতিটা সমস্যারই সমাধান আছে। এই আত্মবিশ্বাস কোনো বই দেয়নি, জীবন শিখিয়েছে।
আমাদের একটি ভুল ধারণা থাকে যে বিদেশে বুঝি রাতারাতি সফল হওয়া যায়। সত্যিটা হলো, এখানে কোনো শর্টকাট নেই। প্রতিদিন অল্প অল্প করে নতুন স্কিল শেখা, ভাষা রপ্ত করা আর নিজেকে বদলানোর নীরব পরিশ্রমটাই দিনশেষে বড় ফল এনে দেয়। মানুষ কেবল ফলাফল দেখে, পেছনের ঘাম ও সংগ্রাম দেখে না।
অনেকে মনে করেন বিদেশে আসার সবচেয়ে বড় লাভ টাকা। আমার কাছে সবচেয়ে বড় লাভ হলো—আমি পাঁচ বছর আগের নিজের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্যশীল, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল। এই পরিপক্কতার দাম কোনো বেতনের অঙ্ক দিয়ে মাপা সম্ভব নয়।
আজ যদি আবার নতুন করে শুরু করার সুযোগ পাই, আমি আবারও জার্মানিতেই আসব। তবে এবার একটি জিনিস বদলাব—প্রথম দিন থেকেই শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের ওপর আরও বেশি বিনিয়োগ করব, ভাষা দ্রুত শিখব এবং দক্ষতায় জোর দেব।
আপনার ভবিষ্যৎ শুধু আপনার ঠিকানা বদলানোর ওপর নির্ভর করে না; বরং আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে থাকুন কিংবা প্রবাসে, প্রতিদিন নিজেকে গতকালের চেয়ে একটু ভালো করার চেষ্টাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এই চেষ্টার পথ ধরে কঠিন দিনগুলোও একদিন সুন্দর স্মৃতিতে পরিণত হয়।
এমআরএম
স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা
পাঠানোর ঠিকানা –
[email protected]
[ad_2]