চরকিতে আসছে ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’: ১২ নভেম্বর উন্মোচিত হচ্ছে পুরো গল্প

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আগামী ১২ নভেম্বর মধ্যরাতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজ ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’। ৯ পর্বের এই নতুন আয়োজনের মাধ্যমে অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া গল্পটির চূড়ান্ত পরিণতি দেখতে পাবেন দর্শকেরা।

সুন্দরবনের পটভূমি ও রাজনৈতিক সংগ্রাম

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসখ্যাত মারীচঝাঁপি গণহত্যার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এই সিরিজে উঠে এসেছে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সাহস, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিরোধের গল্প। সুন্দরবনের গহিন অরণ্যের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত কাহিনীর মূল কেন্দ্রে রয়েছেন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি রহস্যময় ‘মার্শাল’ এবং তরুণ ‘ড্যানিয়েল’।

একপর্যায়ে বিদেশি চক্রান্তের সহিংস সংঘাতের মাঝে পড়ে যায় ড্যানিয়েল। তার বাবার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা এবং অন্যদিকে মার্শালের নিজের অধিকার আদায়ের রাজনৈতিক লড়াইকে ঘিরে গল্পটি এগিয়ে যায়।

সিরিজটির মূল গল্প লিখেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান। যৌথভাবে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ। ঐতিহাসিক সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে একটি কাল্পনিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট রূপায়ন করা হয়েছে এই সিরিজে।

নতুন মৌসুম নয়, পূর্ণাঙ্গ কাহিনীর প্রকাশ

পরিচালক সুকর্ণ শাহেদ ধীমান জানিয়েছেন, ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’ প্রথাগত কোনো দ্বিতীয় মৌসুম নয়। প্রথম মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাথে বাকি গল্প যুক্ত করে পুরো কাহিনীটি একবারে প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে যারা আগের পর্বগুলো দেখেননি, তারাও মূল গল্প বুঝতে কোনো সমস্যায় পড়বেন না।

গত ৩ নভেম্বর প্রকাশ করা সিরিজটির টিজারে বলা হয়েছিল, “তোমাকে আগেই বলেছিলাম, জঙ্গলের নিজস্ব নিয়ম আছে। তা ভাঙলে পরিণতি ভোগ করতেই হবে।”

তারকা বহুল অভিনয়শিল্পী ও নির্মাণকৌশল

বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস ও দক্ষিণাঞ্চলের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এই সিরিজের চিত্রগ্রহণের কাজ হয়েছে দীর্ঘ এক বছর ধরে (২০২৩-২০২৪)। খুলনা, সাতক্ষীরা, মোংলা, চালনা, বটিয়াঘাটা ও বাজুয়ার বিভিন্ন বাস্তব ও দুর্গম স্থানে শুটিং করা হয়েছে।

সিরিজের অন্যতম প্রধান দুই চরিত্র ‘সুনীল’ ও ‘মার্শাল’ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যথাক্রমে চঞ্চল চৌধুরী ও মোস্তফিজুর নূর ইমরান। ইমরান তাঁর চরিত্র নিয়ে জানান, মার্শাল একজন লড়াকু যোদ্ধা, যার পোশাক, শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও আচরণে সংগ্রামের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সিরিজটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন:

  • তারেক আনাম খান
  • তানভীর অপূর্ব
  • হোসেন জীবন
  • তাহমিনা অথৈ
  • রিজভী রিজু
  • ফাদার জয়া, বাবলু বোস, এ কে আজাদ সেতু, আনোয়ার হোসেন, রন্তিক দিপু, আমিরুল ইসলাম ও আবিদ মল্লিক।

এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট ও বটিয়াঘাটার স্থানীয় শতাধিক অভিনয়শিল্পীও এই সিরিজে অংশ নিয়েছেন।

‘ফেউ’ শব্দের অর্থ ও ঐতিহাসিক পটভূমি

সাধারণ ভাষায় ‘ফেউ’ বলতে এক বিশেষ জাতের শিয়ালকে বোঝায়, যা বাঘের উপস্থিতি টের পেয়ে ডেকে উঠে অন্য প্রাণীদের সতর্ক করে দেয়। এছাড়া সার্বক্ষণিক কারও পিছু নেওয়া বা উত্যক্ত করার ক্ষেত্রেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়। পরিচালকের মতে, এই নামের পেছনে একটি রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে, যা দৈনন্দিন জীবনের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতাকে প্রতিফলিত করে।

সিরিজটি মূলত পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মারীচঝাঁপি গণহত্যার পটভূমিতে নির্মিত। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর অনেক হিন্দু শরণার্থী ভারতের মারীচঝাঁপি দ্বীপে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১৬ মে সরকারের উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি হিসাবে দুইজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করে, এই ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

Views: 0