বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় নষ্ট শত শত একর জমির সবজি
[ad_1]
পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা ১৫ দিন ধরে থেমে থেমে আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির সবজি। জলবদ্ধতার কারণে ইতিমধ্যে সবজির ক্ষেতে দেখা দিয়েছে পচন রোগ। এতে ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে সবজি ও ফসল। ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
উপজেলার সবজি উৎপাদনকারী গ্রাম হিসেবে পরিচিত ভাড়ইমারী, নওদাপাড়া, আমসারদাইড়, জগন্নাথপুর, আওতাপাড়া, সিলিমপুর ও চরগড়গড়ী, মুলাডুলি, বাঘহাছলা, চরমিরকামারী মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ঢেঁড়শ, পটল, চিচিঙ্গা, ঝিঁঙার অধিকাংশ জমিতে পানি জমে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুলার ক্ষেত, ধনে পাতা। পচন ধরে নষ্ট হচ্ছে আগাম ফুলকপি।
চরমিরকামারী এলাকার কৃষাণী মোছা. শিরিন খাতুন বলেন, ঢেঁড়শের তিন বিঘা জমিতে এখন এক হাঁটু পানি। বৃষ্টির মধ্যেই ঢেঁড়শ তুলছি। তবে বৃষ্টির কারণে গাছে নতুন ফুল আসছে না। আবার গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকায় পচন ধরেছে। আর কয়েকদিন পানির নিচে থাকলে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
মুলা চাষি রবিউল ইসলাম জানান, মুলা অত্যন্ত আদরের সবজি। আবহাওয়া সামান্য হেরফের হলেই এ ফসলে পচন ধরে। জমি লিজ নিয়ে প্রতিবছরই মুলা চাষ করি। এবারও করেছি। তবে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পচে সব শেষ।
শিমচাষী আব্দুল মজিদ বলেন, সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের অটো শিম লাগিয়েছি। পুরো জমিতেই প্রায় আড়াই ফুট করে পানি জমেছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পুরো জমি তলিয়ে যাবে। এখনিই যদি পানি নেমে যায় তবে গাছের ব্যপক ক্ষতি হবে। গাছ শুকিয়ে যাবে। পচন ধরবে।
এদিকে, উপজেলার অধিকাংশ সবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ১২০, করল্লা ৮০, পটল ৫০, কাঁকরোল ৬০, ঢেঁড়শ ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৫০ (কেজি), বরবটি ৬০, লাউ আকার ভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ -৩০, শসা হাইব্রিড ৪০ দেশি ৯০, কচু ৫০, চাল কুমড়া ৩০ (প্রতিপিচ) ধুন্দল ৩০, ওল ৭০ (কেজি), ঝিঙা ৪০, কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন জানান, ঈশ্বরদীতে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। যা অন্যান্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। বৃষ্টিপাত আগামী আরও কয়েকদিন হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, অতি বৃষ্টিতে নিন্মাঞ্চলের কিছু জমির ফসল তলিয়ে যেতে পারে। যা বৃষ্টি কমেলে স্বাভাবিক হবে। সারা দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাজারে সবজির দাম একটু চড়া। বর্ষাকালীন সময়ে এটা হয়ে থাকে।
শেখ মহসীন/এএইচ
[ad_2]