মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ, তিনিই কি শেষ প্রেসিডেন্ট?
[ad_1]
রিপাবলিকান ভোটাররা কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে রিপাবলিকান পার্টি ভবিষ্যতে আর কোনো প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসে পাঠাতে নাও পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘পাঞ্চবোল নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন। ‘ফ্লাই আউট ডে’-এর প্রথম ধাপের শেষ পর্বে ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। এ সময় তিনি কংগ্রেস, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিস্তর কথা বলেন। এই ধাপে মোট ৪১টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে এর রাজনৈতিক প্রভাব এবং রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের কণ্ঠে উদ্বেগ দেখা গেছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যালটে না থাকায় তার সমর্থকদের একটি অংশ ভোট দিতে নাও যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাদের একটা কথা বলছি, তারা (ডেমোক্র্যাটরা) যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আমিই হয়ত শেষ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারি।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনকে সিনেটে রিপাবলিকানদের শীর্ষ নেতা হিসেবে আরেক মেয়াদে সমর্থন করবেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, থুন ‘SAVE America Act’ পাস করানোর চেষ্টা করছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা করতে না পারলে বিষয়টি দুঃখজনক হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দেখতে চাই কারা এর বিরুদ্ধে ভোট দিতে চায়।’ তার ভাষ্য, এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট-উভয় দলের সদস্যদের তিনি দেখতে চান।
বাজেট প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রশাসনের নীতিগুলো বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে থুনকে ভোট দিতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশগুলোর একটি ছিল ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য। তিনি স্বীকার করেন, তার নাম ব্যালটে না থাকলে তার সমর্থকদের অনেকেই ভোট দিতে নাও যেতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচনে না থাকি, তাহলে কি ওই মানুষগুলো ভোট দিতে যাবে? এটিই একমাত্র বিষয়, যা আমি করতে পারি না। আমি তাদের ভোট দিতে বলব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি ভোট দেবে? কারণ সত্যি বলতে, তাদের অনেকেই রিপাবলিকানদের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। তারা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ, কিন্তু আমার ওপর নয়।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে ছাড়া মাগা (MAGA) সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে ট্রাম্প এখনও বিশ্বাস করেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
রিপাবলিকানদের জন্য অর্থ ঢালবে ট্রাম্পের সুপার প্যাক
ট্রাম্প জানান, তার সুপার প্যাক ‘MAGA Inc.’ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য অর্থ ব্যয় করবে। সংগঠনটির হাতে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের তহবিল রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আমি এটি (অর্থ) যেকোনো কাজে ব্যয় করতে পারি। আমি রিপাবলিকানদের সাহায্য করতে যাচ্ছি।
জেফরিসকে নিয়ে ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে চমকপ্রদ মন্তব্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হাউস ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফরিসকে নিয়ে তার ভাষ্য। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে জেফরিস সম্ভাব্য স্পিকার হতে পারেন। তাকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, জেফরিসের সঙ্গে তিনি কাজ করতে পারবেন বলে মনে করেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, সে ভালো মানুষ। অর্থাৎ, আমার তাই মনে হয়েছে। সে এখানে এসেছিল। হ্যাঁ, আমাদের ভালো বৈঠক হয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটরা আবার তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তাদের ‘ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা বেশি কঠোর হলেও রিপাবলিকানরা ‘অনেক বেশি ভদ্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
মাইক জনসনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত
এই সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের প্রতি নিজের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। এমনকি রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও জনসনকে সমর্থন করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি না, তাকে চ্যালেঞ্জ করার কথাও কেউ ভাবছে।
দলের বিদ্রোহীদের নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন, থম টিলিস, বিল ক্যাসিডি ও লিসা মুরকোভস্কিকে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ভোটে তারা ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীতে যেতে পারেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী টড ব্লাঞ্চের অনুমোদন নিয়েও ক্যাসিডি ও মুরকোভস্কির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে, এসব রিপাবলিকান নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন । বিশেষ করে মুরকোভস্কির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি মুরকোভস্কির বিরুদ্ধে। আলাস্কার জন্য আমি ইতিহাসের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি করেছি। তিনি ভালো নন।
এদিকে, ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শকে নির্বাচনের আগে সুদের হার না বাড়ানোর বিষয়ে কোনো চাপ দেবেন কি না-এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি ওয়ার্শের হাতে নয়; ফেডেরেল বোর্ডেরও ভূমিকা রয়েছে। তবে ওয়ার্শকে ‘দারুণ’ বলে প্রশংসা করেন ট্রাম্প জানান, তাকে সমালোচনা করবেন না।
কেএম
[ad_2]